boni israil kara

বনী-ইসরাঈল কারা?

এমেলিকাদের মনোনীত রাজার নাম ছিলো জালুত। সে ছিলো অত্যান্ত  অত্যাচারী রাজা। বনি ইসরাইলের প্রতি সে ভয়ানক অত্যাচার করত। তাদের ধন-সম্পদ সবই কেড়ে নিয়েছিলো। তাদের উপর নিম্নমানের কাজ চাপিয়ে দিয়েছিল। বনি ইসরাইলের মধ্যকার সুন্দরী রমণীদেরকে জোরপূর্বক তার তাজমহলে নিয়ে যেত। জালুতের অত্যাচারে বনী ইসরাইলেরা অধিকাংশই দেশত্যাগ করে বায়তুল মোকাদ্দাসে আশ্রয় নিল। হযরত শামুয়েল আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানেই ছিলেন। বনী ইসরাইলেরা এ সময় একজন শক্তিশালী বাদ্শার আবির্ভাবের জন্য হযরত শামুয়েল আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট দোয়া প্রার্থনা করলো। 

বনি ইসরাঈলের ঘটনা:

হযরত শামুয়েল আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনী ইসরাঈলদের দুরবস্থা দেখে আর সহ্য করতে পারলেন না। তাই তিনি আল্লাহর দরবারে একজন সাহসী শক্তিশালী ও ধর্মপরায়ণ বাদ্শার আবির্ভাবের জন্য প্রার্থনা করলেন।  আল্লাহ তায়ালা নবীর  দোয়া কবুল করে জিবরাঈল আলাইহি ওয়াসালামকে নবীর নিকট প্রেরণ করে একখানি মাপকাঠি দিলেন। বনি ইসরাইলের মধ্যে দিয়ে যিনি এ মাপকাঠিতে বরাবর হবে তিনি বনী ইসরাইলদের বাদ্শা হবে। 

এ ঘোষণার পরে একাধারে সমস্ত মানুষকে মাপতে আরম্ভ করল।  একদিন এক মেষ রাখাল এসে যখন মাপ দিলো তখন তার মাপটা বরাবর হলো। তার নাম ছিল তালুত। তখন হযরত শামুয়েল আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বেশ কিছু প্রশ্ন করে পরীক্ষা করে নিলেন।  

অতঃপর এই ব্যক্তিকে বনী ইসরাঈলদের বাদ্শা বলে ঘোষনা দিলেন। নবী তাকে জালুতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার কথা বললেন। তালুত এক বাক্যে স্বীকার করে সেই মুহূর্ত থেকে যুদ্ধপ্রস্তুতি আরম্ভ করে দিলেন।  বনী ইসরাঈলদেরকে তালুতের সাথে যুক্ত যাত্রার জন্য নির্দেশ দিলেন। অনেকে তালুতকে মেষ রাখাল বলে বিদ্রুপ করলো। নবী তাদেরকে বললেন আল্লাহতালার পক্ষ থেকে তাকে তোমাদের নেতা করে পাঠিয়েছে। 

অতএব বিনা প্রতিবাদে তার পেছনে সারিবদ্ধ হও। যদি তোমরা এবারের যুদ্ধযাত্রাই অবহেলা প্রদর্শন করো তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে পুনরায় দুঃখ-কষ্টে নিপতিত করবেন। তখন তোমরা একটি পশুর মর্যাদাও লাভ করতে সক্ষম হবে না। শৃগাল কুকুরের ন্যায় ঘৃণার পাত্র হিসেবে জঘন্য পরিণতির দিকে অগ্রসর হবে।  

বনী ইসরাইলদের স্বভাব:

কেউ তা রোধ করতে পারবেনা। বনী ইসরাঈলেরা চিরদিনই টেরা বুদ্ধির লোক ছিলো। এবারেও তারা পূর্বপুরুষদের স্বভাব পরিত্যাগ করতে পারলো না। তারা নবী কে বলল, তালুত যে আল্লাহর মনোনীত বাদশা তার একটা যথাযোগ্য প্রমাণ দিন।  তাহলে আমরা তার তাবেদারী করে যাব।  কোন দ্বিমত পোষণ করবো না।  

Related Gojol

তালুত যে কারণে বাদশাহ হিসেবে স্বীকৃতি পেলেন:

হযরত শামুয়েল আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন তাবুৎ নামক আশ্চর্য সিন্দুকটি আজ শত্রুকবলিত অবস্থায় আছে। তোমরা কেউ তা উদ্ধার করতে সক্ষম নও। তালুত যদি আল্লাহ-তালার মনোনীত বাদ্শা হয়ে থাকে তাহলে সে আজকের দিনের মধ্যে সেটি উদ্ধার করে আনতে সক্ষম হবে। আর যদি আল্লাহ-তালার  মনোনীত না হয় তবে সে সিন্দুক উদ্ধার করতে সক্ষম হবে না।  

মনে রেখো, তোমাদের মধ্য থেকে যদি কেউ  আজকে দিনের মধ্যে সিন্ধুক  উদ্ধার করতে সক্ষম হও, তবে তাকেই আমি বাদ্শা বলে ঘোষণা দেব। বনি ইসরাইলেরা নবীর কথা শুনে  নির্বাক হয়ে গেল। কারণ তাবুত নামক সিন্ধুক  এমেলেকাদের রাজা জালুতের গুদামে রক্ষিত বলে সকলের জানা ছিল। সেটা উদ্ধার করা স্বাভাবিক ব্যাপার নয়।  তাই সকলে থ খেয়ে বসে রইল।  কারো মুখ থেকে আর একটি কথা বের হল না। 

এদিকে হযরত শামুয়েল আলাইহি ওয়াসাল্লাম তালুতকে ডেকে বললেন, তুমি সোজা পূর্বদিকে মরুভূমির দিকে চলে যাও। সেখানে গাড়ি বহনকারীর সাথে সাক্ষাৎ পাবে। তুমি গাড়িতে উঠে তাকে গাড়ি এদিকে চালিয়ে নিয়ে আসতে বলবে। তালুত তখন নবীর কথা অনুসারে তৎক্ষণাৎ পূর্বদিকে মরুভূমির মাঝে গিয়ে দেখেন, দুইজন মানুষ একটি গাড়ী টেনে নিচ্ছে।  

গাড়ির উপর একটি বাক্স, তখন তিনি গাড়ির উপর গিয়ে বসলেন এবং চালকদিককে গাড়ি এদিকে চালানোর আদেশ দিলেন। চালকেরা তখন গাড়ি ঘুরিয়ে এদিকে চালাতে আরম্ভ করল।  অল্প সময়ের মধ্যে তালুত সিন্ধুক নিয়ে  নবীর দরবারে পৌঁছে গেল।  তখন নবী বনী ইসরাঈলদেরকে ডেকে তা দেখালো  এবং তালুতের বাদশাহীর স্বীকৃতি দিতে বললেন। 

জালুত যার হাতে নিহত হবে:

বনী-ইসরাঈলগণ তখন বাধ্য হয়ে তালুতের নেতৃত্ব স্বীকার করে নিল। তালুত  তখন সকল বনী ইসরাঈলকে জালুতের বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রার জন্য প্রস্তুতি নিতে বললেন। হযরত শামুয়েল আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি লোহার বর্ম দান করে  বললেন, এই বর্ম যার শরীরে মানাবে এবং মাপে খাটবে, জালুত তার হাতে নিহত হবে।  

অতঃপর তালুত যখন বর্মটি পড়লেন তখন দেখা গেল তার শরীরের মাপে বর্মটি উপযুক্তভাবে মানিয়েছে। তখন নবী তাকে বললেন এখন যুদ্ধ যাত্রা আরম্ভ করো। তালুত হযরত শামুয়েল আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে বিদায় নিয়ে যুদ্ধযাত্রা করলেন। তার সাথে প্রায় ৮০ হাজার বনি ইসরাইল সৈন্য এগিয়ে চলল। ওদিকে জালুতের গুপ্তচোরেরা তালুতের আক্রমণের কথা জালুতকে জানিয়ে দিলো।  তারা এই খবর জানতে পেরে তড়িৎ রণসজ্জায় সজ্জিত হলো।  তালুত সৈন্যদেরকে নিয়ে পথ চলতে আরম্ভ করলেন।  

বনী-ইসরাঈলের অধিকাংশ সৈন্য যে কারণে মৃত্যুবরণ করলো:

পথিমধ্যে একসময় তিনি সমস্ত সৈন্যদের থামিয়ে বললেন, আল্লাহ-তায়ালা  কিছুক্ষণের মধ্যে তোমাদেরকে এক নদীর সম্মুখীন করবেন, তখন তোমরা কেউ  নদীর পানি পান করবে না।  যদি একান্ত পান করতে ইচ্ছা করে তাহলে মাত্র এক অঞ্জলি পান করিও। তাহলে আমরা তাবেদার হিসেবে বলবৎ থাকবো।  

আর যদি তোমরা অধিক পানি পান করো তাহলে আর আমরা তাবেদারের অন্তর্ভুক্ত থাকবোনা।  নাফরমানদের অন্তর্ভুক্ত হবো।  একথা বলে পুনরায় পথ চলতে আরম্ভ করলেন।  কিছুদূর অগ্রসর হবার পরে তারা এক জঙ্গলের মধ্যে প্রবেশ করে এক নদীর সম্মুখীন হলেন। নদীর পানি অত্যন্ত স্বচ্ছ ও  পরিষ্কার। 

সেখানে সৈন্যদেরকে নিয়ে তালুত কিছু সময় বিশ্রাম নিলেন।  এ সময় বনী-ইসরাঈলের অধিকাংশ সৈন্যরা পেট ভরে পানি পান করল। কিছু সৈন্য তাদের সেনাপতিদের আদেশ অনুসারে এক অঞ্জলি পানি পান করল।  আবার কিছু লোক আদৌ পানি পান করল না।  তবে তাদের সংখ্যা ছিল নিতান্তই কম। 

যারা অধিক পানি পান করল তাদের অবস্থা ক্রমেই খারাপ হতে লাগলো।  তাদের জিহ্বা বের হয়ে গেল পেট ফুলে গেল এবং অসহ্য যন্ত্রণায় চিৎকার করতে করতে কিছু সময়ের মধ্যে মৃত্যুবরণ করল।  

মোট ৮০ হাজার সৈন্যের প্রায় সকলেই অধিক পানি পান করে মৃত্যুমুখে পতিত হলো।  যারা অল্প পানি পান করেছিল তাদের সংখ্যা ছিল মাত্র 300 জনের কিছু বেশী।  তারা সকলেই সুস্থ ছিল। তালুত এই অল্প সংখ্যক সৈন্য নিয়ে জালুতের সাথে যুদ্ধ করতে অগ্রসর হলেন।  অল্প সংখ্যক সৈন্যদের মাঝে ছিলেন যুবক হযরত দাউদ আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর ছয় ভাই এবং পিতা।  

জালুত কেন অট্টহাসি হাসলেন:

হযরত দাউদ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই যাত্রার পথ চলার সময় মাঠ থেকে তিনটি পাথর কুড়িয়ে নিয়েছিলেন।  এ পাথরগুলো তার নিকট সংরক্ষিত ছিল।  তিনি যুদ্ধের জন্য পাথরকে সর্বশ্রেষ্ঠ অস্ত্র মনে করে বুকের সাথে লাগিয়ে রেখেছিলেন। ওদিকে জালুত কয়েক লক্ষ অস্ত্রধারী সৈন্য নিয়ে তালুতের সৈন্যদের অপেক্ষায় পথ চেয়ে ছিল। 

তখন জালুত দেখলো মাত্র 313 জন সৈন্য নিয়ে তালুত যুদ্ধ ময়দানে হাজির হয়েছে। তখন সে এক অট্টহাসি দিয়ে বললেন, এ ক্ষুদ্র দলের মাঝে যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়া অত্যন্ত লজ্জার ব্যাপার।  বনি ইসরাইল সৈন্যরা জালুতের বিশাল বাহিনী দেখে বললো, আমরা ক্ষুদ্র সংখ্যক সৈন্যরা জালুতের বিশাল বাহিনীর সাথে মোকাবেলা করতে পারবোনা।  অতএব আমাদের আত্মসমর্পণ করা ছাড়া উপায় নেই।  

আবার কেউ কেউ বলল আমরা যদিও সংখ্যায় কম তবে আমাদের সাথে আল্লাহ আছে।  অতএব আমরা বিশাল সৈন্যবাহিনীর মোকাবেলা করবো।  নিশ্চয়ই  আল্লাহ আমাদেরকে সাহায্য করবেন। অনেক ক্ষেত্রে আল্লাহ তায়ালা ক্ষুদ্র দলকে বিশাল বাহিনীর মোকাবেলায় জয়যুক্ত করে থাকেন।  

বনি ইসরাইলেরা জালুতের সৈন্যদের সম্মুখে এসে হাজির হলো। তখন আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করে তারা বলল, হে দয়াময়! আমরা তোমার নবীর নির্দেশক্রমে এ জিহাদে অবতীর্ণ হয়েছি অতএব তুমি আমাদেরকে সাহায্য করো।  যেন আমরা কাফেরদের সাথে যুদ্ধে বিজয়ী হতে সক্ষম হই।  

তুমি আমাদেরকে দৃঢ় রেখো, আমাদেরকে প্রয়োজনীয় শক্তি সামর্থ্য দান করো। জালুত বনি ইসরাইলের নগণ্য সৈন্য দেখে দূত প্রেরণ করে তালুতকে জানিয়ে দিলো। তোমার ক্ষুদ্র দলের সাথে যুদ্ধে প্রবৃত্ত হলে আমার ইজ্জত রক্ষা পাবে না। তার চাইতে তোমরা আমার নিকট আত্মসমর্পন করো। 

যদি একথায় তোমরা রাজি না হও তবে প্রথমে আমার একার সাথে তুমি মল্লযুদ্ধে অবতীর্ণ হও। যার মাধ্যমে আমি পরখ করে নেবো যে, তোমরা যুদ্ধের জন্য যোগ্য  কিনা। জালুতের কথা শুনে তালুত দূতকে বলে দিলেন যেন আমাদের ক্ষুদ্র দল দেখে না মনে করে যে আমরা দুর্বল। আমাদের সাথে মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ তাআলা রয়েছেন।  এতএব, জালুতের বিশাল সৈন্যবাহিনীকে আমরা পরোয়া করি না। 

বাদ্শা তালুতের সৎ সাহস:

যারা আল্লাহর রহমতের উপর নির্ভর করে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয় তারা ক্ষুদ্র হলেও বিজয়ী হয়ে থাকে। এর অসংখ্য নজির পৃথিবীতে বিরাজমান রয়েছে। এ কথা বলে তিনি দূতকে বিদায় করলেন। অতঃপর তালুত বনী ইসরাঈলদেরকে  উদ্দেশ্য করে বললেন তোমাদের মধ্যে এমন কে আছো যে, কাফের জালুতের মুন্ডটা কেটে আনতে পারো? তালুতের কথায় প্রথমে কেউ সাড়া দিল না।  

তাই তিনি পুনরায় বললেন তোমরা আল্লাহ তায়ালার রহমতি বাহিনী। তোমরা সাহস করে সম্মুখে অগ্রসর হও।  নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের সাহায্য করবেন। অতএব কে আছো? যে আনন্দের সাথে কাজ করতে রাজি আছো ? মনে রেখো, যে ব্যক্তি জালুতের মাথা কেটে এখানে হাজির করতে পারবে তাকে আমি আমার রাজ্যের অর্ধেক দান করব এবং আমার সুন্দরী কন্যা কে তার সাথে বিবাহ দিব। তালুতের এই আহবানে কাউকে তেমন উৎসাহিত হতে দেখা গেলো না। 

তখন তালুত নিজেই জালুতের মোকাবেলা করার জন্য প্রস্তুতি নিলেন।  এমন সময় রেশমি পোশাক পরিহিত উজ্জ্বল বর্ণের এক সুদর্শন যুবক এসে তালুতকে সালাম দিয়ে বললেন, মহাত্মন! আমি জালুতের মস্তক ছিন্ন করে নিয়ে আসতে প্রস্তুত আছি।  আমি আল্লাহ-তালার উপর নির্ভর করে সম্মুখে অগ্রসর হচ্ছি। 

হযরত দাউদ (আ. ) এর হাতে জালুতের হত্যা:

আপনি আমার জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করুন।  এসময় লৌহবর্ম পরিহিত বিরাট দেহের অধিকারী রাজা জালুত ঘোড়ার পিঠে সেখানে এসে বলল, তোমাদের মাঝে কে আছো যে আমার সাথে মোকাবেলা করবে? আমি ক্ষণিকের মধ্যে তোমাদের অস্তিত্ব নিশ্চিহ্ন করে দিচ্ছি। তোমরা আমাকে যুদ্ধের নামে যথেষ্ট অপমান করেছো। এই অপমানের সাজা আমি এখনই দিচ্ছি। 

 এই কথা বলে উলঙ্গ তরবারি নিয়ে সম্মুখে অগ্রসর হলো। তখন হযরত দাউদ আলাইহি ওয়াসালাম গিয়ে তাঁর সম্মুখে উপস্থিত হলেন। তার হাতে কোন অস্ত্র ছিল না।  জালুত হযরত দাউদ আলাইহি ওয়াসালামকে দেখে বলল তুমি নিরস্ত্র বালক আমার সম্মুখে কেন এসেছ? 

হযরত দাউদ আলাইহি ওয়াসালাম বললেন আমি তোমার সাথে যুদ্ধ করব।  জালুত জিজ্ঞেস করল কি দিয়ে তুমি যুদ্ধ করবে? হযরত দাউদ আলাইহি ওয়াসালাম বললেন আমার নিকট কিছু রহমতি পাথর রয়েছে। এ পাথর দ্বারা  তোমার মস্তক গুড়িয়ে দেব।

জালুত তখন হযরতের কথা শুনে তাচ্ছিল্যের হাসি হাসলেন এবং বললেন তোমার যুদ্ধপ্রস্তুতি দেখে আমার দয়া হয়।  তাই তোমাকে বলছি এ বয়সে জীবনটা নষ্ট করে কি লাভ তার চেয়ে বরং তুমি ফিরে যাও। এ জীবনটা রক্ষা করো।  অর্থ ও সুন্দরী রমণীর মোহে বিবেক-বুদ্ধি হারিয়ে যতটুকু অগ্রসর হয়েছো তা প্রশংসার যোগ্য।  এখন সম্মুখে বিপদ আর অগ্রসর হইওনা।

পাথরের আঘাতে জালুত হত্যা:

হযরত দাউদ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন ক্ষিপ্ত হয়ে বললেন, তুই একটি কুকুর আর কুকুরকে মারার জন্য পাথরই যথেষ্ট।  এই বলে একখণ্ড পাথর জালুতের মস্তক লক্ষ্য করে ছুড়ে মারলেন।  এক পাথরের আঘাতে জালুত অশ্বপৃষ্ঠ হতে ভুতলে পতিত হলো।  তখন হযরত দাউদ  আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাকী ২ খন্ড পাথর তার শরীরের ওপর নিক্ষেপ করলেন। 

কোন কোন তাফসীরকারক লিখেছেন, একখণ্ড পাথর নিক্ষেপ করে জালুতকে খতম করার পরে বাকি দুই খন্ড পাথর তার সৈন্যদের নিক্ষেপ করা হয়। যাতে সমস্ত ময়দানের বিশাল বাহিনী সমূলে ধ্বংস প্রাপ্ত হয়। জালুত ও তার সেনাবাহিনীকে ধ্বংস করার পরে তালুত তার রাজ্য দখল করেন এবং একছত্র অধিপতি হিসেবে রাজ্য পরিচালনা আরম্ভ করেন। 

Related Vedios

Related post: