je karone doctor moris bukaily muslim holen

ফেরাউনের লাশ গবেষণায় ড. মরিস বুকাইলির ইসলাম গ্রহন

ডাঃ মরিস বুকাইলি (dr. morris bukai) যিনি দেশ কাল রাষ্টের সীমানা পেরিয়ে পরিচিত বিশ্বের সকল দেশের সকল মানুষের কাছে শান্তিকামী এক সাহসী সন্তান। তিনি ফ্রান্সের এক খ্রিস্টিয়ান পরিবারে জন্ম নিয়েও পরবর্তীতে তার খ্রিস্টান ধর্মবিশ্বাসে পরিবর্তন আসে।  তিনি খ্রিস্টান ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম কে বেছে নেন।  

তার মুসলিম রোমাঞ্চকর কাহিনীর পেছনে রয়েছে মহাগ্রন্থ আল কোরআনের একটি মাত্র আয়াত। হাঁ, আল কুরআনের একটি মাত্র আয়াতই পাল্টে দেয় এই মহা মানুষের জীবন। তিনি পবিত্র কোরআনের অখণ্ডনীয় সততায় মুগ্ধ হয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে। তার ইসলাম গ্রহণের হৃদয়ে দাগ কেটে যাওয়ার এই ঘটনাটি নিয়ে আমাদের আজকের এই আর্টিকেলটি।

আল কুরআনের একটিমাত্র আয়াত পাল্টে দেয় ড. মরিস বুকাইলির জীবন।

তৎকালীন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট François Mitterrand প্রেসিডেন্ট পদে থাকেন ১৯৮১ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত।  তিনি তার পদে থাকাকালীন সময়ে ৮০ র দশকের শেষের দিকে ফেরাউনের মম্মীকে অতিথিয়তার জন্য মিশরের কাছে অনুরোধ জানালেন।

ফ্রান্সে তাতে কিছু প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা করতে চাইলো, মিশরের সরকার তাতে রাজি হলো। 1981 সালে মিশর থেকে ফেরাউনের লাশ আনা হয়েছিল ফ্রান্সে।রাজকীয় সংবর্ধনা দেয়া হয়েছিল দ্বিতীয় অভিশপ্ত কিং রামসেসের (king rameses) এর লাশকে।  লালগালিচা সংবর্ধনা দিয়ে বরণ করা হয়েছিল ফেরাউনকে। এর আগে তার পাসপোর্ট তৈরি করতে হয়, পাসপোর্টে তার পরিচয় লেখা হয় মহান মিশর সম্রাট। 

ফ্রান্সের আইন হিসেবে জীবিত বা মৃতকেও ফ্রান্সের পাসপোর্ট ছাড়া ঢুকতে পারে না আর নিয়ম মেনে তাকে ফ্রান্সের ল্যাবে হাজির করা হয় কাজেই  কায়রো থেকে ফেরাউনের যাত্রা হলো ফেরিস। প্লেনের সিঁড়ি থেকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট তার মন্ত্রীবর্গ ও ফ্রান্সের সিনিয়র অফিসারগণ লাইন দিয়ে দাঁড়ালেন।  মাথা নিচু করে ফেরাউনকে স্বাগত জানালেন।

 ফেরাউনকে রাজকীয় ভাবে বরণ করে তার মমিকে ফ্রান্সের প্রত্নতাত্ত্বিক কেন্দ্রের একটা বিশেষ ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া হলো যেখানে ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় সার্জনরা আছে এবং তারা ফিরাউনের মমিকে অটপসি (autopsy) বা ময়না তদন্ত করে সেটা স্টাডি করবে এবং তার গোপনীয়তা উদঘাটন করবে। মমির উপর গবেষণার জন্য প্রধান চারজন ছিলেন তারমধ্যে প্রফেসর মরিস বুকাইলি  ছিলেন অন্যতম। 

ডক্টর মরিস বুকাইলির জন্ম 920 সালের ফ্রান্সে। ডাক্তারি পেশা হলেও পরবর্তী জীবনে তিনি একাধারে তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব গবেষক, মিশর তত্ত্ববিদ লেখক, এবং ফরাসি সোসাইটির একজন সদস্য হিসেবে সুনাম অর্জন করেন। ডক্টর মরিস বুকাইলি1945 থেকে 1982 সাল পর্যন্ত সুদীর্ঘ সময় ডাক্তারি পেশায় ব্যাপৃত থেকে মেডিসিন চর্চা করেন এবং গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি উপর তিনি একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে সুনাম অর্জন করেন।

ফ্রান্সের সীমানা অতিক্রম করে তার সুনাম এবং সুখ্যাতি এতটাই বিস্তৃত হয় যে 1973 সালে ডঃ মরিস বুকাইলি সৌদি আরবের বাদশাহ ফয়সালের পরিবারের চিকিৎসক হিসেবে নিযুক্ত হন। তার মৃত্যু হয়েছে 1995 সালে। 17 দশকের সৌদি আরবের বাদশাহ ফয়সাল এবং মিশরের বাদশাহ আনোয়ার সাদাতের পারিবারিক চিকিৎসকও ছিলেন। 

এই মমি নিয়ে গবেষণার জন্য অনেক ডাক্তার উপস্থিত ছিলেন সেখানে। থেরাপিস্ট (Therapist) যারা ছিলেন তারা এই মমিকে পুনর্গঠন করতে চাচ্ছিলেন আর ডক্টর মরিস বুকাইলি জানার চেষ্টা করছিলেন যে কিভাবে এই ফেরাউন মারা গেল রাতের শেষ দিকে ফাইনাল রেজাল্ট আসলো তার শরীরে লবণ অবশিষ্ট ছিল। 

এটাই সবচেয়ে বড় প্রমাণ যে ফেরাউন ডুবে মারা গিয়েছিল এবং তার শরীর ডুবার সঙ্গে সঙ্গেই লোহিত সাগর থেকে তুলে আনা হয়েছিল, তারপর লাশ  সংরক্ষণ করার জন্য দ্রুত মমি করা হলো কিন্তু এখানে একটি ঘটনা প্রফেসরকে একেবারে হতবুদ্ধি করে দিল যে, কিভাবে এই মমি অন্য মমিদের তুলনায় একেবারেই অরক্ষিত অবস্থায় থাকতে পারে! 

যদিও বা এটি সমুদ্র থেকে তোলা হয়েছে আর কোন বস্তু যদি আদ্র অবস্থায় থাকে তাহলে ওই বস্তুকে ব্যাকটেরিয়া  দ্রুত ধ্বংস করে দিতে সক্ষম।  কারন আদ্র পরিবেশে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশ বৃদ্ধি করতে পারে। ডাক্তার মরিস বুকাইলি ফাইনাল রিপোর্ট তৈরি করলেন যাতে তিনি বললেন, এটা এক নতুন আবিষ্কার।

সেই সময় একজন তার কানে ফিসফিসিয়ে বলল, মুসলিমদের এই ডুবে যাওয়া মমি সম্পর্কে জটপট করে আবার বলতে যেওনা। কিন্তু তিনি দৃঢ়ভাবে এর   সমালোচনা করলেন এবং এটা আজব প্ল্যান। এইরকম একটা বিশাল আবিষ্কার… যেটা আধুনিক বিশ্বের উন্নতির জন্য সহায়তা করবে, সেটা জানানো যাবে না। 

Related Gojol

কেউ একজন তাকে বললেন পবিত্র কুরআনে বলা আছে ফেরাউনের ডোবা ও  লাশের ব্যাপারে। এই ঘটনা শুনে ডঃ মরিস বুকাইলি বিস্মিত হয়ে গেলেন এবং প্রশ্ন করতে লাগলেন এটা কি করে সম্ভব! এই মমি পাওয়া গিয়েছে 1881 সালে আর কোরআন নাজিল হয়েছে আজ থেকে চৌদ্দশ বছর আগে। 

আরবরা প্রাচীন মিশরীওদের মমি করার পদ্ধতি জানতই না।  মাত্র কয়েক দশক আগে যা আমরা জেনেছি, ডাক্তার মরিস বুকাইলি সেইরাতে ফেরাউনের লাশের দিকে এক…. দৃষ্টিতে তাকিয়ে বসে রইলেন আর গভীরভাবে ভাবছিলেন যেটা তার কলিক তার কানে ফিসফিসিয়ে বলে গেল যে মুসলিমদের কুরআনে ফেরাউনের লাশের সংরক্ষণের কথা রয়েছে। 

বাইবেলে ফেরাউন কর্তৃক মুসা (আ.) এর পিছু নেওয়ার কথা বলা আছে কিন্তু ফেরাউনের লাশের কি হলো সেটা সম্পর্কে কিছুই বলার নেই। তিনি নিজেকে প্রশ্ন করছিলেন যে, এটা কি করে সম্ভব! 

এ মমি-জাত সেই ফেরাউন কি.. মুসা আলাইহি ওয়াসালাম এর পিছু নিয়েছিল? তবে এ থেকে  ধারণা করা যায় যে মুহাম্মদ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চৌদ্দশ বছর আগে এ সম্পর্কে জানতেন। সেই রাতে ডাক্তার মরিস বুকাইলি ঘুমাতে পারলেন না।  

তিনি তাওরাত আনলেন  এবং সেটা পড়লেন। তাওরাতে বলা আছে পানি আসলো এবং ফেরাউনের সৈন্য এবং তাদের যানবাহনগুলোকে ঢেকে দিল যারা সমুদ্রে ঢুকলো, তাদের কেউই বাঁচতে পারল না। এতে মরিস বুকাইলি হতবুদ্ধি হয়ে গেলেন যে, বাইবেলের লাশের সংরক্ষণের ব্যাপারে কিছুই বলার নেই।

তিনি তার লাগেজ বাঁধলেন এবং সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি মুসলিম দেশে যাবেন এবং সেখানে প্রখ্যাত মুসলিম ডাক্তারদের সাক্ষাৎকার নেবেন যারা অটপসি (autopsy) বিশেষজ্ঞ আর সেখানে পৌছানোর পর ফেরাউনের লাশ ডোবার পর আর সংরক্ষণের যে আবিষ্কার নিয়ে তিনি যেটা পেয়েছেন,  সেটা নিয়ে বললেন। 

তাই একজন বিষেশজ্ঞ মুসলিম পবিত্র কুরআন খুললেন  এবং আয়াতটির ব্যাখ্যা ডাক্তার মরিস বুকাইলিকে পড়ে শোনালেন, যেখানে সর্ব শক্তিমান আল্লাহতালা  বলেছেন_______ 

“অতএব আজকের দিনে বাঁচিয়ে দিচ্ছি আমি তোমার দেহকে যাতে তোমার পরবর্তীদের জন্য নিদর্শন হতে পারে আর নিঃসন্দেহে বহুলোক আমার   মহাশক্তির প্রতি লক্ষ্য করে না।” 

Dr. Moris Bukaily______________

ডাঃ মরিস বুকাইলি এই আয়াতের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে পড়লেন এবং ভীষণভাবে অভিভূত হয়ে তিনি তার জোর গলায় চিৎকার দিয়ে বললেন 

“আমি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছি এবং আমি কুরআনে বিশ্বাসী।”

Dr. Moris Bukaily______________

Read More: গবেষক ডা. মরিস বুকাইল’র দুর্লভ সাক্ষাৎকার

সুবাহানাল্লাহ এতেই প্রমাণ হয় যে পবিত্র কোরান আল্লাহর কালাম। ডাক্তার মরিস বুকাইলি ফিরে গেলেন এক কৌতূহলী অবস্থায়। প্রায় 10 বছর তিনি আর কোন ডাক্তারী অনুশীলন করেননি  বরং এই সময়ে টানা 10 বছর ধরে তিনি আরবি ভাষা শিখেছেন। তিনি পবিত্র কোরআনে কোন বৈজ্ঞানিক দ্বিমত আছে কিনা সেটা খুঁজেছেন। 

তারপর তিনি পবিত্র কোরআনের একটি আয়াত এর অর্থ ভীষণভাবে বুঝলেন সেটা হচ্ছে এতে মিথ্যার কোনো প্রভাব নেই, সামনের দিক থেকেও নেই , পিছনের দিক থেকেও নেই। এটি  প্রজ্ঞাময়-প্রশংসিত আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। 

1976 সালে ডাক্তার মরিস বুকাইলি একটি বই লিখেন, যেটা পশ্চিমা বিজ্ঞানীদের টনক নাড়িয়ে দেয়। যেটা বেস্ট সেলার হয়। বইটি প্রায় পঞ্চাশটিরও বেশি ভাষায় অনুবাদিত হয়েছে। বইটির নাম হচ্ছে বাইবেল কুরআন এবং বিজ্ঞান। এর আগে পবিত্র কুরআনের কয়েকটি আয়াত মুছে ফেলার দৃষ্টান্তপূর্ণ দাবি জানিয়েছেন ফ্রান্সের আড়াইশো রাজনীতিবিদ।

তারা একটি  ইস্যুর মাধ্যমে এ দাবি জানিয়েছিলেন। ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞ ও অবিবেচক রাজনীতিবিদরা বলেছেন আয়াতগুলিতে নাকি ইহুদি ও খ্রিস্টানদের  হত্যা এবং শাস্তির কথা বলা হয়েছে। আয়াত মুছে ফেলার এই দাবী এই মহা গ্রণ্থ  এবং তার অনুসারী মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী  পরিচালিত গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ বলে তা প্রতীয়মান হয়। 

কুরআনের আন্তরিক ও অনুসন্দিৎসু পাঠক মাত্রই জানেন যে এতে এমন কোনো আয়াত বা আয়াতসমূহ নেই যার শানে নুযুল নেই। ফ্রান্সের ওই রাজনীতিবিদরা  যদি শানে নুযুলসহ তাদের কথিত আয়াতগুলো পড়তেন তাহলে তারা উপযুক্ত উত্তর পেয়ে যেতেন। 

ফ্রান্সের কথিত রাজনীতিবিদরা যদি পবিত্র কোরআন ভালো করে পাঠ করতেন তাহলে জানতেন ফেরাউনের মমীর রহস্য উন্মোচনের কাহিনী এবং ডাক্তার মরিস বুকাইলির  গ্রন্থটিও সেইসাথে পড়তেন তাহলে কুরআনের সত্য উপলব্ধি করতে পারতেন তাহলে আর তাদের পক্ষে কুরআনের আয়াত গুলো মুছে ফেলার দাবি তোলার মাধ্যমে অকাটমুর্খতা  প্রদর্শন করা সম্ভব হতো না। 

আপনারা জানেন যে, ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী ইমানুয়েল ম্যাক্রো মহানবীর কার্টুন বানানোর অনুমতি দিয়েছিলেন অথচ সে যদি প্রজ্ঞাময় কুরআন সম্পর্কে জ্ঞান আহরণ করতো তাহলে এই নিকৃষ্ট কাজটি করার অনুমোদন দিতো না।  প্রিয় বন্ধুগণ আল্লাহ এইভাবে বিধর্মীদের জন্য নিদর্শন তৈরি করে রেখেছেন যারা এইসব নিয়ে গবেষণা করবেন তারা মুসলমান হতে বাধ্য। আপনি কি এই বিষয়ে একমত? 

Related Videos

Related post: 

/