মসজিদের পাশে কবর দিলে কতটা সওয়াব পাওয়া যায়?

মসজিদের পাশে কবর দিলে কতটা সওয়াব পাওয়া যায়?

মসজিদ হলো মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে সবচেয়ে প্রিয় জায়গা। এটি দিনরাত রহমত নাযিলের ক্ষেত্র। এসব জায়গায় আমরা মহান আল্লাহর জিকির করি, ইবাদত বন্দেগী করি।

এখানে আমরা আল্লাহ তয়ালার সন্তুষ্টির জন্য দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাত জামাতের সাথে আদায় করি। এটি হলো ইবাদত বন্দেগীর জায়গা। কিন্তু এই মসজিদের ভিতর যদি আমরা কবরস্থান নির্মান করি তাহলে মসজিদ ও কবর একাকার করার ফলে অনেক ক্ষেত্রে সেখানে কোন প্রসিদ্ধ ব্যক্তির কবরস্থান হলে এটা শিরকের কেন্দ্র হয়ে যেতে পারে, আল্লাহ আমাদের সকলকে এই শিরকের মত ভয়ংকর পাপ থেকে বেঁচে থাকার তৌফিক দান করুন, আমিন।

তাই আসুন, কোনো মুসলিম ব্যক্তিকে যদি আল্লাহর ঘর মসজিদের ভিতর কবর দেওয়া হয় তাহলে কতটা সওয়াব পাওয়া যায় এবং এ নিয়ে ইসলাম কী বলে সেটার একটা পরিপূর্ণ ধারণা জেনে নিই যা সহীহ্ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। কারণ আমরা মুসলিমরা আল্লাহর ঘর মসজিদে আসি তাঁর ইবাদত বন্দেগীর জন্য, তাঁকে সন্তুষ্টি রাখার জন্য কিন্তু তার বদলে যদি আমরা শিরকের মত জগন্য পাপ করে পেলি তাহলে ত আমাদের সওয়াবের পরিবর্তে আযাব ও গজব নাযিল হবে,  নায়ুযুবিল্লাহ্। আল্লাহ আমাদের সকলকে ইমানের পথে অবিচল থাকার তৌফিক দান করুন, আমিন।

কোনো মুসলিম ব্যক্তিকে মসজিদের পাশে কবর দিলে কতটা সওয়াব পাওয়া যায়?

 মসজিদ হলো মহান আল্লাহর ঘর। এখানে প্রত্যেক মুসল্লী দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাত জামাতের সহীত আদায় করে। এটি প্রত্যেক মুসলমানদের মধ্যে অত্যন্ত পবিত্র একটি জায়গা। এখন কথা হলো মসজিদের ভিতর কবরস্থান দিলে কতটুকু ফায়দা পাওয়া যায়। এ সম্পর্কে আসলে সহীহ্ কোন হাদিস পাওয়া যায় নি। 

আমাদের সমাজে এমন রেওয়াজ প্রচলিত আছে যে প্রত্যেক মুসলমান ভাই বোনেরা চান যে তার আত্মীয়স্বজনকে যতটা সম্ভব মসজিদের ভিতর কবরস্থান দিতে। মৃত ব্যক্তি আযান ও ইমামের কিরাআত শুনে ও সওয়াব পায়। আমাদের সমাজে অনেক মুমিন মুসলমান এ জন্য অসিয়তও করে যান। কিন্তু যারা সেখানে কবর দিবেন তাদেরও ঠিক হবে না। 

 আসলে মসজিদের ভিতর কবর নির্মাণ করা প্রকৃতপক্ষে কোন সৌভাগ্যের বিষয় নয়। বরং তিনি যদি কোন প্রসিদ্ধ বড় কোন পীর হয়ে থাকেন তখন এ মসজিদটা,  এই আল্লাহর ঘরটা শিরকের কেন্দ্র হয়ে যেতে পারে। মানুষ মসজিদে এসে আল্লাহকে সিজদাহ্ না করে পীরকে সিজদাহ্ করতে শুরু করে দিবে।  এসমস্ত পাপ কাজ থেকে আমাদের বিরত থাকতে আবশ্যক। 

আমাদের সমাজে এখনও এই ভুল ধারণা আছে যে, মসজিদের কাচে যদি কবর দেওয়া হয় তাহলে হয়ত মৃত ব্যক্তি মসজিদের যত ভালো কাজ হয় সব তিনি দেখতে পাবেন, এছাড়াও মসজিদের যত ফজিলত আছে যেমন—- জিকির, কেরাতসহ সব ইবাদত তিনি পাবেন। কিন্তু না, তিনি কিছুই পাবেন না। 

কিন্তু তা যদি এমন হয় যে, যদি তিনি জীবদ্দশায় সদকায়ে জারিয়া (প্রবহমান দান) করে গিয়ে থাকেন, তাহলে তিনি যেখানেই সমাহিত হোন না কেন, কবরেও এর সওয়াব পাবেন। নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন : ‘যখন মানুষ মারা যায় তখন তিনটি ছাড়া তার সব আমল বন্ধ হয়ে যায়। সেই তিনটি হলো

  • সাদকায়ে জারিয়া, 
  • উপকারী ইলম, 
  • নেককার সন্তান, যে পিতার জন্য দোয়া করে। (মুসলিম, হাদিস : ৪৩১০)

এছাড়াও অনেকে আরেকটা মারাত্মক ভুল করেন সেটা হলো,,মসসিদের ভিতর কবর থাকায় কবরের দিকে ফিরে নামাজ আদায় করেন কিন্তু তা করা জগন্যতম হারাম ও শিরকের কাজ। রাসূল (সা.) এটি নিষেধ করেছেন। যেখানে কবর সেখানে ত রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাজ পড়তে নিষেধ করেছেন।

 এছাড়াও কবরে গিয়ে সিজদা করা, ইবাদত বন্দেগী  করা এসব নিয়ে রাসুল (সা.) পুরোপুরি নিষেধ করেছেন। সুতরাং কোনোভাবেই মসজিদের ভিতর কবরস্থান করা যাবে না। আমাদের সমাজে, মসজিদের কাছেই কবরস্থান দেখা যায়। মনে হয়, আমরা কবরস্থানে নামাজ পড়ছি। কিন্তু আমরা জেনে না জেনে শিরকের মত ভয়ংকর পাপ করচি, যে পাপ কিনা মহান আল্লাহ কখনও ক্ষমা করবেন না। 

এখন প্রশ্ন হলো মসজিদের ভিতর কবর দেওয়া নাজায়েজ কিন্তু যদি কোনো মুসলিম ব্যক্তিকে আল্লাহর ঘর মসজিদের পাশে কবর দেওয়া হয় তাহলে সেটা জায়েজ আছে কিনা বা এ সম্পর্কে  ইসলাম কী বলে সে সম্পর্কে আমরা জানব যা শায়েখ আহমাদুল্লাহ সাহেব অন্ত্যন্ত সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

_______Sayekh Ahmadullah

প্রকৃতপক্ষে মসজিদের পাশে কবর দিলে এতে কোন গুনাহ নেই, তবে মসজিদের উত্তর ও দক্ষিণ বরাবর কবরস্থান নির্মাণ করা উত্তম। পশ্চিমপাশে কবরস্থান নির্মাণ না করাই ভালো। তবে এতে কোন গুনাহ্ হবে না ইনশাআল্লাহ।  তবে নিজের বিবেকের কাছেও কেন জানি একটু বেমানান লাগে,, কেননা আমাদের কিবলা হলো পশ্চিম দিকে যেদিক বরাবর আমরা শুধু এক আল্লাহকে সিজদাহ্ করি। এখন সে পাশে যদি কবরস্থান দেওয়া হয় তখন বিষয়টি নিজের কাছেও খারাপ লাগারি কথা। তাই মসজিদের পশ্চিমপাশে কবরস্থান নির্মাণ না করাই উত্তম। 

এ সম্পর্কে শায়েখ আহমাদুল্লাহ হুজুর অনেক সুন্দর ভাষায় বিষয়টি উপস্থাপন করেছেন। তাই ধেরী না করে আসুন শায়েখ আহমাদুল্লাহ হুজুরের সেই প্রশ্নোত্তর পর্বটি শুনে নিই……

উপসংহারঃ

আজকের Article এর মূল বিষয়বস্তু হলো কোন মুসলিম ব্যক্তিকে যদি আল্লাহর ঘর মসজিদের ভিতর কবর দেওয়া হয় তাহলে সেটা সওয়াবের পরিবর্তে শিরকের মত জগন্য পাপের দিকে ধাবিত হবে কিন্তু মৃত ব্যক্তিকে আল্লাহর ঘর মসজিদের পাশে কবর দেওয়া হয় সেক্ষেত্রে কোন প্রকার গুনাহ হবে না ইনশাআল্লাহ। 

এজন্যই তো আমাদের প্রিয় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম একটি বিখ্যাত ইসলামি-সংগীত লিখে গিয়েছেন….

মসজিদের ই পাশে আমার কবর দিও ভাই।

যেন গোরে থেকেও মোয়াজ্জিনের আজান শুনতে পাই।।

আমার গোরের পাশ দিয়ে ভাই নামাজীরা যাবে,

পবিত্র সেই পায়ের ধ্বনি এ বান্দা শুনতে পাবে।

গোর – আজাব থেকে এ গুনাহগার পাইবে রেহাই।।

কত পরহেজগার খোদার ভক্ত নবীজীর উম্মত ঐ মসজিদে করে রে ভাই, কোরান তেলাওয়াত।

সেই কোরান শুনে যেন আমি পরান জুড়াই।।

কত দরবেশ ফকির রে ভাই, মসজিদের আঙ্গিনাতে আল্লার নাম জিকির করে লুকিয়ে গভীর রাতে, আমি তাদের সাথে কেঁদে কেঁদে…

(আল্লার নাম জপতে চাই) ।

______________________ Kazi Nazrul Islam

পরিশেষে, Dr. Mizanur Rahman Azhari অন্তত সুন্দর সমুধুর কন্ঠে…  কাজী নজরুল ইসলামের সেই বিখ্যাত সংগীতটি গেয়েছেন। আসুন একবার শুনে আসি সে বিখ্যাত গজলটি।

Related Gojol:

Watch More:  Mizanur Rahman Azhari Short Gojol

Watch More: Gojol

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ প্রকৃতপক্ষে একটা কথা জানা খুবই জরুরি তা হলো মৃত ব্যক্তির কবরস্থান বাড়ির সামনে বা নিকটবর্তী সুবিধাজনক জায়গায় করা উচিত কেননা মৃত ব্যক্তির কবরস্থান চোখের সামনে থাকলে আমাদের মনে মৃত্যুর ভয় জাগ্রত হবে, আমাদের তখন দুনিয়ার মোহে পড়ে না থেকে আখিরাতের ভয় জাগ্রত করবে। কেননা একদিন আমাদের সকলকে মৃত্যুবরণ করতে হবে। 

 كُلُّ نَفْسٍۢ ذَآئِقَةُ ٱلْمَوْتِ


বাংলাতেঃ কুল্লু নাফসিন যাইকাতুল মাওত

“প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে৷ আর আমি ভালো ও মন্দ অবস্থার মধ্যে ফেলে তোমাদের সবাইকে পরীক্ষা করছি, শেষ পর্যন্ত তোমাদের আমার দিকে ফিরে আসতে হবে ৷”

( সূরা আম্বিয়াঃ ৩৫ )

আমরা সফলকাম তো তখনি হবো যখন আমাদের শেষ ঠিকানা জান্নাত হবে এছাড়া আর অন্য কোন কিছুতেই আমরা সফল নই যতই বড় ডিগ্রী অর্জন করি না কেন এবং আল্লাহ রাববুল আলামীন কুরআনে কারীমে ইরশাদ করেনঃ 

প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। আর কিয়ামতের দিন তোমাদের পরিপূর্ণ বদলা দেওয়া হবে। তারপর যাকে দোজখ থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, সেই সফলকাম। আর পার্থিব জীবন ধোঁকার বস্তু ছাড়া কিছুই নয়।

(সুরা আল ইমরান: ১৮৫)

Related Video:

Islamic Answer:

Mizanur Rahman Azhari Waz

Abu Tuha Mohammad Adnan waz

Sayekh Ahmadullah Waz

Sayekh Ahmadullah Short Waz

Related post: