নতুন ল্যাপটপ কেনার সম্পূর্ণ গাইড স্টেপ বাই স্টেপ Laptop Buying Guide Step by Step

নতুন ল্যাপটপ কেনার সম্পূর্ণ গাইড ২০২২ (১০ টি উপায়) | Laptop Buying Guide in BD

নতুন ল্যাপটপ কেনার সম্পূর্ণ গাইড – নতুন ল্যাপটপ কেনার আগে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: islamicworldds এর গ্যাজেট বিভাগ থেকে আপনাকে স্বাগতম। প্রায় সময় আমরা কনফিউজড হয়ে যাই এই ব্যাপারটাতে যে কোন ল্যাপটপ টা নিলে আমরা বেস্ট ভ্যালু ফর মানি পাবো। এছাড়াও লক্ষ্য রাখতে হবে যে দোকান কিংবা অনলাইনে না ঠকে, আমরা যেন আমাদের best value for money laptop কিনতে পারি। আজকে আমরা স্টেপ বাই স্টেপ নতুন ল্যাপটপ কেনার সম্পূর্ণ গাইডলাইন সম্পর্কে আলোচলা করবো। 

নতুন ল্যাপটপ কেনার সম্পূর্ণ গাইড:

1. কি প্রকার লেপটপ কিনবো 

আপনারা প্রথমে সিদ্ধান্ত করুন আপনাদের ল্যাপটপ কেনা উচিত হবে, নাকি আপনাদের ডেক্সটপ দিয়ে কাজ চালাতে পারবেন সেটা আপনাদের কিন্তু সবার আগে সিলেট করা উচিত বা আপনারা কোন কাজের জন্য ল্যাপটপ নেবেন সেটা আগে সিলেট করা উচিত? আপনাদের আমি বলবো যে  ল্যাপটপ কিন্তু কেনা সবক্ষেত্রে উচিত নয়, কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা যদি ডেক্সটপ কিনি তাহলে কিছুটা টাকা সেভ করতে পারি। 

2. বাজেট (Budget)

দ্বিতীয়ত হচ্ছে আমাদের বাজেট। আপনি একটি লেপটপ ফিক্সট করার আগে, প্রয়োজনীয়তা এবং তারপর বাজেট বিবেচনা করা প্রয়োজন।  অতএব,পছন্দগুলি গুরুত্বপূর্ণ এবং সেই অনুযায়ী বাজেট নির্বাচন করা করতে হবে। আমাদের হাতে কত হাজার টাকা আছে সেটার উপর নির্ভর করবে আমরা কি প্রকার লেপটপ কিনবো। ধরুন আমরা বাজেট সিলেক্ট করে নিলাম 50 হাজার 60 হাজার কিংবা 70-80 হাজার সেটা হচ্ছে আমাদের বাজেট। 

3. স্ক্রীন সাইজ (Screen Size)

তৃতীয় যে পয়েন্টটা আসে সেটা হচ্ছে আমাদের স্ক্রীন সাইজ। স্ক্রীন সাইজ এবং স্ক্রীন  কোয়ালিটি এটা খুব গুরুত্বপূর্ণএকটা ফ্যাক্টর। কত ইঞ্চি স্ক্রিন আপনারা নিবেন সেটা খুবই দরকার 14 ইঞ্চি 15.6 ইঞ্চি 17 ইঞ্চি বা যত ইঞ্চি আপনাদের দরকার সেটা choose  করে নিবেন। ছোট ল্যাপটপে ফুল কিবোর্ড সাইজ থাকেনা, কিন্তু বড় ল্যাপটপে আপনারা ফুল সাইজ কিবোর্ড পেয়ে যাবেন। 

4. ডিসপ্লে কোয়ালিটি (Display Quality)

চতুর্থ পয়েন্টে কথা বলি ডিসপ্লে কোয়ালিটির ব্যাপারে, অবশ্যই আইপিএস প্যানেল যেন হয় এটি অনেক হাই কোয়ালিটি সম্পন্ন, তবে যদি গেমিং করেন বা এজাতীয় কিছু করেন সেক্ষেত্রে নাও নিতে পারেন। 

5. প্রসেসর (Processor) 

পঞ্চম পয়েন্টে বলব প্রসেসর সম্পর্কে। একটা লেপটপ বা ডেক্সটপের প্রসেসর খুবি গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। তাই লেপটপ বা ডেক্সটপ কিনার আগে ভালো প্রসেসর সম্পর্কে জানা জরুরি, তাই আমরা প্রসেসর কি নেব সে সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকতে হবে। 

প্রফেসরের ক্ষেত্রে আবার দুই রকম প্রসেসর রয়েছে যথা ইন্টেল আরেকটা আইএমডি। প্রথমে বলবো ইন্টেলের ব্যাপারে আপনারা আশা করি জানেন যে i3, i4, i5, i6, i7 এটাতো আমাদের কাছে কমন তাই এ পাঁচটা আমাদের কাছে অপশন রয়েছে, মিনিমাম যেন i3 হয়। i3 এরমধ্যে আবার অনেক রকম নাম্বার থাকে, নাম থাকে।  

সে ক্ষেত্রে আপনাদের বলবো যে, যেন 10 জেনারেশনের উপরে হয় বা 10 বা 11 জেনারেশন হয়, তার নিচে যেন না হয়। সে ক্ষেত্রে বুঝবেন কি করে বলুন তো? হ্যাঁ, প্রথমে থাকে i3 বা i4 তারপর যে দুটো লেটার থাকে সেখানে যদি 10 থাকে তার মানে এটা 10 জেনারেশন এর। 

এরপর লাস্টে থাকে ফ্রীপিক, Y থাকে, U থাকে G1, G2, G3, G4, G5, G6, G7 বিভিন্ন কিছু থাকে।  U হচ্ছে একটি মোবাইল প্রসেসর। সেটি নরমাল কাজের জন্য একদম পারফেক্ট। যদি Y থাকে তারমানে সেটা এমন একটি মোবাইল প্রসেসর যে, সে ক্ষেত্রে আপনারা ব্যাটারি লাইফ খুব ভালো দেখতে পারবেন।  

তারপর কথা বলবো G1, G2 এগুলা কি?  G1 মানে হচ্ছে গ্রাফিক্যাল পাওয়ার কতটা রয়েছে। G1 মানে গ্রাফিক্যাল পাওয়ার সবচেয়ে কম, G2 মানি তার থেকে বেশি, G3 তার থেকেও বেশি এভাবে গ্রাফিক্যাল পাওয়ার এর  উপর ডিপেন্ড করে এটি।  

কিছু কিছু ল্যাপটপে H থাকে। H মানে হাই পাওয়ার ল্যাপটপ, এর ভিতর যে ইন্টেল প্রসেসর রয়েছে সেটা হাই পাওয়ারের। এরপর আমরা কথা বলবো এএমডি (AMD) প্রসেসর নিয়ে। এক্ষেত্রে আপনারা অনেকে কনফিউজ হয়ে যান যে এএমডি’র কোন প্রসেসরটি নিব? এখানে থাকে r3, r5, r7। রাইজেনের ল্যাপটপ প্রসেসরকে বলে প্রো প্রসেসর।  

6. র‍্যাম (Ram)

ষষ্ঠ পয়েন্ট হচ্ছে RAM, র‍্যাম যেন মিনিমাম 8GB হয়। 16GB হলে আরো ভালো। তার থেকেও বেশি হলে তো আরও ভালো। মোটকথা র‍্যাম  যত বেশি হবে ল্যাপটপ বা ডেক্সটপ অনেক ফাস্ট চলবে।

7.স্টোরেজ (Storage)

সপ্তম পয়েন্ট হচ্ছে storage, মিনিমাম 240 GB যেন HSD থাকে। এবার আপনাদের মনে কনফিউশন হতে পারে HSD টা কেন নিব? প্রথম কারণ হচ্ছে ফাস্টবুট, যখন আমরা ল্যাপটপ চালাবো বা যখন এটি ওপেন হবে সে ক্ষেত্রে ওপেনিং টাইম অনেক ফাস্ট হয়ে যাবে। যে কোন অ্যাপ অনেক ফাস্ট হয়ে চলবে।  

8. জিপিইউ (GPU)

অষ্টম পয়েন্ট হচ্ছে আমরা কোন ধরনের GPU বা Graphic Card নিব? আপনারা যদি নরমাল ইউজার হন সে ক্ষেত্রে আপনারা Integrated is more than enough. আপনারা যদি গেমিং ও ভিডিও এডিটিং এর মতন কাজ করতে চান তাহলে গ্রাফিক্স কার্ডের প্রয়োজন হবে। তারপর আপনাদের মনে আসতেই পারে আমরা  2GB, 4GB, 6GB, 8GB কত জিবির গ্রাফিক্স কার্ড নিব? সেক্ষেত্রে আপনারা একটু রিসার্চ করুন কোন গ্রাফিক্স কার্ডটি আপনাদের জন্য ভালো হবে। 

9. আপগ্রেড করার বিকল্প (Upgrading Options)

নবম পয়েন্ট হচ্ছে Upgrading Options. মানে আমাদের ল্যাপটপের হার্ডডিস্ক বা HSD or Ram কি আপডেট করা যাবে কিনা, সেটা দেখতে হবে।  তারপর দেখতে হবে সেখানে ওয়েবক্যামেরা কেমন রয়েছে বা ওয়েবক্যামেরার কোয়ালিটি কেমন রয়েছে, তাছাড়া সেখানের স্পিকার কোয়ালিটি, মাইক্রোফোন কোয়ালিটি কেমন রয়েছে এগুলো দেখতে হবে। 

10. ব্যাটারি লাইফ (Assessing the Battery Life)

দশম পয়েন্ট হচ্ছে ব্যাটারি লাইফ। ল্যাপটপে যেন ব্যাটারি লাইফ মিনিমাম পাঁচ থেকে ছয় ঘন্টা+ হয়, সেটা অবশ্যই চেক করে নিবেন। প্রতিটি প্রক্রিয়াকরণ উপাদান এবং হার্ডওয়্যার অন্তর্ভুক্তির জন্য শক্তি প্রয়োজন যা হয় বিদ্যুত বা পাওয়ার ব্যাকআপ বা বরং অন্তর্ভুক্ত ব্যাটারি দ্বারা অফার করা হয়। অতএব, আদর্শ পরিস্থিতি হল এমন একটি ডিভাইস কেনা যা কমপক্ষে 8 ঘন্টা ব্যাকআপ দেয়। তদুপরি, আপনি যদি আরও বিফ-আপ ডিভাইস (beefed-up device) পেতে চান তবে আপনাকে অবশ্যই এর ব্যাটারির কোয়ালিটির দিকে নজর দিতে হবে।

বিবেচনা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল যে আপনি কখনই ব্যাটারি ব্যাকআপের বিষয়ে কোনও প্রস্তুতকারককে বিশ্বাস করবেন না বরং পরীক্ষা করবেন। তবে ব্যাটারি ফুরিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় কেউ আপনাকে 6 থেকে 8 ঘন্টা দোকানে পরীক্ষা করতে অনুমতি দেবে না। তাই কাজটি সম্পন্ন করতে আপনি তৃতীয় পক্ষের পর্যালোচনাগুলি দেখতে পারেন অর্থাৎ google এ সার্চ করে  বা কোনো বিশেষজ্ঞ পক্ষের review নিয়ে তারপর কিনুন ৷

এরপর আপনারা দেখবেন আপনাদের কিবোর্ড এর কোয়ালিটি। কিবোর্ড যেন অবশ্যই থাকে, তাছাড়া আপনাদের যে মাউসের টেপপ্যাড রয়েছে সেটা দেখবেন। মানে টেপপ্যাড টা কত বড় দিয়েছে এসব আরকি। এছাড়াও আপনারা চেক করবেন ল্যাপটপের বিল্ড কোয়ালিটি। বিল্ড কোয়ালিটিটা দেখবেন যেন সেটা অবশ্যই ভালো মানের হয়। সবগুলো port যেন ভালোমতো থাকে। Type-C যেন থাকে।  এক্ষেত্রে HDMI পোর্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

Extra POST:

Share on pinterest
Share on facebook
Share on twitter
Share on email
Share on linkedin
Share on tumblr
Share on whatsapp
Share on mix